কেমন হবে ভবিষ্যতের পৃথিবী ? কীভাবে করে টেকনোলজি বদলে দিবে মানুষের জীবনযাপনের ধারা? সময় কি একই বেগে ছুটবে নাকি বদলে যাবে এর গতিপথ? মানুষ কে সরিয়ে জায়গা করে নেবে বুদ্ধিমান রোবট ? তোমার কাছেই শুনতে চাই তোমার ভাবনা, গল্পের আঙ্গিকে । বাংলাদেশের সাহিত্যচর্চায় সায়েন্স ফিকশন খুব দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আর তারুণ্যের প্ল্যাটফর্ম ‘সরব’ এই জনপ্রিয় ধারাটিকে সব সময় গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। আমরা অসংখ্য গল্প প্রকাশ করেছি shorob.com এ। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের নতুন প্রজেক্ট – ‘রাইটার অফ দ্য ফিউচার’ ! সায়েন্স ফিকশন গল্প লিখে জিতে নাও সর্বমোট ১০০০০ টাকার বই ।

শুধু তাই নয়! বিজয়ী লেখকরা ভবিষ্যতে "সরব প্রকাশনী"তে বই প্রকাশের সুযোগও পাবেন! তাহলে আর দেরি কেন?!

কীভাবে অংশ নেবে?

১। তোমার লেখা গল্পটি অবশ্যই সায়েন্স ফিকশন ঘরানার হতে হবে । আমরা আসলে একটা চমৎকার গল্প খুঁজছি – যার শুরুটা এঙ্গেজিং , চরিত্রগুলো সাবলীল , প্লটিং দারুণ , শেষটাও কনভিন্সিং আর ভাষাটা সহজ কিন্তু সুন্দর ।
২। গল্পটি সর্বোচ্চ ২৫০০ শব্দের মধ্যে হতে হবে।
৩। তোমার গল্পের সাথে তোমার নাম, ইমেল ও ফোন নাম্বার সহ ইমেইল করতে হবে এই ঠিকানায়- shorob.banglaATgmail.com
৪। গল্প পাঠানোর শেষ তারিখ ২১ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১২ টা।
৫। একজন সর্বোচ্চ ২ টি সাবমিশন করতে পারবে। কিন্তু প্রতিযোগিতার ফাইনাল স্টেজে একটিকেই গ্রহণ করা হবে।
৬। যদি তোমার বয়স হয় ১৫ থেকে ৩২ তাহলে আর দেরি কেন এখনি পাঠিয়ে দাও তোমার গল্প!

যেসব পুরষ্কার অপেক্ষা করছে -

১ম পুরষ্কারঃ ৪০০০ টাকার বই।
২য় পুরষ্কারঃ ২৫০০ টাকার বই।
৩য় পুরষ্কারঃ ১৫০০ টাকার বই।
৪র্থ থেকে ১০ম বিজয়ী পাবে একটি করে বই।

কীভাবে আমরা বিজয়ীকে খুঁজে বের করব?

প্রাথমিক বাছাই এর পর নির্বাচিত গল্পগুলো সরব এর ফেইসুবক পেইজে শেয়ার করা হবে। সেখান থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাইক এবং শেয়ার এর ভিত্তিতে শর্টলিস্ট করা হবে। সেই শর্টলিস্ট বিচারকদের কাছে পাঠানো হবে। সর্বমোট ১০০ নাম্বার ধরে প্রতিটি গল্পকে মার্কিং করা হবে। ৭৫ নাম্বার আসবে বিচারকদের থেকে। একাধিক বিচারক লেখকের নামবিহীন গল্পে নাম্বার দেবেন, সেটা গড় করে নেয়া হবে। বাকি ২৫ নাম্বার আসবে ফেইসবুক লাইক এবং শেয়ার থেকে। প্রতিটি শেয়ার ৫ টি লাইক এর সমান পয়েন্ট পাবে। ফেইসবুক লাইক এবং কমেন্ট এর সংখ্যা স্কেলিং করে ২৫ এ রূপান্তর করা হবে।

তোমার গল্পটি বাতিল হতে পারে যে সব কারণে-

১। লেখাটি নকল হিসেবে প্রমাণিত হলে ।
২। কোন ভাবে অসৎ পন্থা অবলম্বন করার চেষ্টা করলে যেমন লাইক বা শেয়ারের ক্ষেত্রে "ফেইসবুক বট ব্যবহার" ইত্যাদি।
৩। লেখায় প্রচুর বানান ভুল থাকলে আমরা সেটিকে প্রাথমিক স্তরেই বাদ দিতে পারি। অনুগ্রহ করে লেখা প্রুফরিড করার ব্যবস্থা করতে হবে।

যে কোন সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরব টিমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

“...যদি কোনদিন ঘুম ভেঙ্গে দেখি সেই আকাশ আর নেই, মাথার ওপর থেকে হারিয়ে গেছে সেই সুনীল সাগর...কি হবে আমার?...”

পাহাড়ের কোল বেয়ে সূর্যটা দিচ্ছে উঁকি। পুবের মৃদু হাওয়া, কোকিলের কুহুতান, মাথার ওপর বিশাল আকাশ। আকাশটা ঠিকঠাক আছেই তাহলে। জীবনটাকে খুব ভালবাসতে ইচ্ছে হল কি? জীবনটা সত্যি অনেক সুন্দর! সত্যিই কি তাই?

কে জানত মৃত্যুর আগে শেষ সূর্যোদয় এতটা সুখের হতে পারে!

কোন অস্তিত্বের মৃত্যু কি এতটাই সহজ?

সবাই বলে, জীবন একটাই। কিন্তু একটা জীবনে মানুষ কতবার জন্মে? যতবার স্বপ্ন দেখে, ততবার নতুন করে একটা মানুষের জন্ম হয়, জন্ম হয় এক অস্তিত্বের। আর সেই অস্তিত্বের মৃত্যু মেনে নেয়া খুব কঠিন।

একটা স্বপ্নের জন্ম হয় কিভাবে? নিশ্চয় একদিনে নয়।

অস্তিত্বের জন্ম হয় তারও পরে।

অথচ স্বপ্ন ভেঙ্গে গেলেও অস্তিত্ব বেঁচে থাকে। অস্তিত্বের মৃত্যু এত সহজ নয়।

কিন্তু অস্তিত্বের মৃত্যুর পর তাকে নতুন করে জাগিয়ে তোলা সম্ভব নয়। সেটা করতে হলে নতুন করে এক অস্তিত্বের জন্ম দিতে হবে।

“...কেন জানি আজকাল মনে হয় ঐ আকাশকে আঁকড়ে ধরে রাখি। চোখের আড়াল করতেই যদি সে হারিয়ে যায়!”

স্বপ্নেরা সত্যিই হারিয়ে যায়। একটু চোখের আড়াল হলেই। সাথে মাথার উপর সেই বিশাল আকাশটাও।

এত যে ভাল লাগার এই জীবন,

এত যে সাধনার এই জীবন,

এত যে তিলে তিলে, স্বপ্নে স্বপ্নে...

ঠিকই তো ঘুম ভাঙবে।

কি পেয়েছো তুমি? কি চেয়েছিলে তুমি?

হিসেবটা তোমার বড়ই গড়মিল...

(অ্যাশেজ)

-আমি আর্কিটেকচার বিল্ডিঙের সামনে, আপনি?

-আমি কাছাকাছি। আসছি।

-(কিঞ্চিৎ বিরক্ত কণ্ঠে) আপনি কোথায়?

-আমি পাঁচ মিনিটের ভেতরেই আসছি। একটু অপেক্ষা করুন।

রাস্তা পার হয়ে ব্যাংকের গেটের সামনে আসতেই তাকে আবারও ফোন দিলাম। সে ক্যাম্পাসে প্রথম এসেছে। তাই সব বিল্ডিং, সব গেট ঠিকমত চেনে না।

-আপনি কোথায় আছেন এখন?

-আপনি কোথায় আছেন সেটা বলুন। আমিই আসছি।

-ব্যাংকের গেটের সামনে।

-আপনি ওখানেই থাকুন। আমি আসছি।

দূর থেকে দেখছি তাকে। খুব সিরিয়াস একটা লুক, চোখে মোটা কাল ফ্রেমের চশমা। কাছাকাছি আসতেই আমি তাকে হাত নেড়ে বত্রিশ দাঁত বের করে আমার সিগনেচার স্মাইল দিলাম। সেও হালকা হাসি দিয়ে হাত নাড়ল।

তার সাথে প্রথম দেখা। আমার হাতে বাদামের প্যাকেট দিয়ে বলল, “আপনার জন্য।” আমি একটু অবাক হলাম। তার মত ছেলেরা বাদাম খায় তাহলে?

-দেখা হয়েই গেল শেষ পর্যন্ত তাহলে!

-হ্যাঁ, সেরকমটাই তো কথা ছিল।

আমাদের ক্যাম্পাসের প্রিয় জায়গাগুলো তাকে ঘুরিয়ে দেখালাম। আমি হাঁটছি। পাশে সে।

-চলেন, আপনাকে ঐ ছাদটায় নিয়ে যাই।

-আমাকে ওখানে যেতে দিবে?

-কেন যেতে দিবে না? আমি আপনাকে নিয়ে যাব।

ছাদের রেলিং-এ বসে আছি। ক্যাম্পাসের বেশ খানিকটা অংশ দেখা যায় ওখান থেকে। শেষ বিকেলের মিষ্টি আলোয় আমরা কিছুটা দূরত্বে বসে আছি। এই দূরত্ব কিছুটা অস্বস্তির। তবুও একদম অচেনা দুজন মানুষের জন্য এই দূরত্ব বজায় রাখাটা খুব বাঞ্ছনীয়।

-আমাকে দেখে আপনার কেমন মনে হল?

-(বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে) সারাজীবন অনেক পড়াশুনা করেছেন...আর অনেক লক্ষ্মী একটা মেয়ে।

-আচ্ছা। আর আপনার ক্লাসমেটদের তুলনায় অনেক খ্যাত। তাই না?

-হা হা...না। আপনি খ্যাত না। ক্ল্যাসিক বলা যায়।

-আমাকে খুশি করার জন্য বলছেন না তো?

-আমি কাউকে খুশি করার জন্য কিছু বলি না।

তারপর ‘খ্যাত’ এর সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যাসহ তার বিশাল লেকচার শুনলাম। বুঝলাম সে লেকচার দিতে পছন্দ করে।

-বুঝলেন এবার?

-হুম, বেশ বুঝলাম।

-এবার আপনার কথা বলেন।

আমি বললাম আমার কথা, স্টুডেন্ট লাইফ, ক্যারিয়ার, বন্ধুবান্ধব, কলিগদের কথা। সেও প্রসঙ্গক্রমে তার স্টুডেন্ট লাইফ, টিউশনি, ক্যারিয়ার, স্বপ্ন এসব নিয়ে বলল। বুঝলাম, তার আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন আর ক্যারিয়ারই তার জীবনের সব।

-আপনি হাসলে আপনাকে সুন্দর লাগে।

-(কি বলব বুঝতে পারছিলাম না) তাই?

-হুম। কিন্তু আপনি বেশিরভাগ সময় গম্ভীর থাকেন। হাসেন খুব কম।

-ধন্যবাদ।

কথা বলতে বলতে কখন যেন সন্ধ্যা পেরিয়ে গেল। গাছের পাতার ফাঁকে চাঁদটাকে দেখা যাচ্ছে। সে কথা বলছে। সে কথা বলতে বেশ পছন্দ করে। আর আমি পুরো সময় ধরে মন দিয়ে তার কথা শুনছি। একেই কি মুগ্ধতা বলে?

-(হঠাৎ তার ফোন এল। ফোন রাখতেই...) কয়টা বাজে দেখেছেন?

-কয়টা বাজে?

-আপনি না বললেন সন্ধ্যার পর বেশিক্ষণ বাসার বাইরে থাকলে আপনার সমস্যা?

-আরো কিছুক্ষণ থাকি?

-(আলতো হেসে) আপনি থাকতে চাইলে আমার কোন সমস্যা নেই।

কেন জানি উঠতে ইচ্ছে করছিল না। মনে হচ্ছিল, সময় যদি এখানেই থেমে যায়। আর আমাদের কথোপকথন চলতেই থাকুক।

কিছুক্ষণ পর আমার বাসা থেকেই ফোন আসল। আসলেই একটু রাত হয়ে যাচ্ছে। বাসায় কি ফেরা উচিত?

-আপনার আসলেই বাসায় ফেরা উচিত। আমি বুঝতে পারছি, আপনার আরও কিছুক্ষণ কথা বললে ভাল লাগত। আর সেটা সম্ভব হলে আমারও ভাল লাগত। কিন্তু আমাদের এখন উঠা উচিত।

মেইন গেটের সামনে দাঁড়িয়ে হালকা নিয়ন আলোয় তার চোখের দিকে তাকালাম। কি অসম্ভব ভাল লাগায় মনটা ভরে গেল! কখনও কাউকে এতটা ভাল লেগেছে কি?

রিকশায় উঠিয়ে দিয়ে তাকে হালকা হাত নাড়িয়ে বিদায় জানালাম। সেও। কেন জানি মনে হল, সে যেন হারিয়ে যাচ্ছে অন্য কোথাও। দৃষ্টির সীমানার মাঝে যতক্ষণ ছিল, ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম আমি। যেন পাথর হয়ে গেছি।

সত্যি কি আবারও দেখা হবে তার সাথে? আবারও কি পড়ন্ত বিকেলের মৃদু বাতাসে তাকে পাশে রেখে হাঁটতে পারব এই প্রিয় পথটা ধরে? আবারও কি ভর সন্ধ্যায় অবাক বিস্ময়ে তার কথায় বিভোর হতে পারব? যদি অনন্তকাল রিং বেজে যাওয়ার পরও ঐ প্রান্ত থেকে কোন উত্তর না আসে? যদি আর শুনতে না পাই সেই প্রিয় কণ্ঠস্বর? যদি সে সত্যিই হারিয়ে যায়?

নতুন বাসায় উঠেছি বছর খানেক হয়ে গেল। আমাদের কমপ্লেক্সের ঠিক মাঝখানটায় সবুজ লন আছে। প্রতি সন্ধ্যায় ফ্লাডলাইটের আলোয় জেগে উঠে এই লন। কেউ হয়তো ব্যাডমিন্টন খেলায় ব্যস্ত, কেউ হয়তো অফিস শেষে বাচ্চাদের নিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ হয়তো ফাউন্টেনের পানিতে আলতো পা ভিজিয়ে আড্ডায় মশগুল। আর আমার চোখ ফ্লাডলাইটের আলোর উদ্ভাসনে ডুবে থাকে সবুজের মাঝে।

মুগ্ধতার অপর নাম প্রেম। আকাশের সাথে প্রেম সেই বহুকাল ধরে। আর সেই আকাশকে আরও কাছে পেলাম যেদিন আমাদের বাসার ছাদে প্রথমবারের মত গেলাম। সেদিন একঝাঁক বাচ্চার আবদার রাখতে গিয়ে আমাদেরই প্রতিবেশি রাহাত আর রাখী ফানুশ উড়িয়েছিল আকাশে। ফানুশগুলো সেদিন আকাশ ছুঁতে পারেনি। দিগন্ত পেরিয়ে তাদের অবশেষে নেমে আসতে হয়েছিল চিরচেনা ধরণীর বুকে। তা দেখে বাচ্চাগুলোর মন  বেজায় খারাপ। আমারও খুব ইচ্ছে হল ফানুশ হতে। খুব ইচ্ছে হল রাতের আকাশের জ্বলজ্বলে, ক্রমশ ক্ষীয়মাণ, ভালবাসায় বিভোর ফানুশের মত দিগন্তের খুব কাছাকাছি ঘুরে আসতে! কেন জানি পুরনো প্রেম এসে জেঁকে ধরল এই আমাকে! আবারও নতুনভাবে খুব ভালবাসতে ইচ্ছে হল ঐ আকাশকে!

এরপর থেকে শুরু হয়ে গেল আমার চুপিচুপি প্রেম। বিকেল হলেই চলে আসি ছাদে। আকাশ তার বিশালতার চাদরে ছেয়ে থাকে আমাকে। আর আমি মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকি তার রূপান্তর। আকাশ তার রং বদলায়। সূর্য ডুবিডুবি হয়ে আসে। শেষ বিকেলের মাতাল হাওয়ায় এক ভুবন চিল একলা শহরের আকাশে উড়তে থাকে। আমারও খুব ইচ্ছে হয় সেই ভুবন চিলের ডানায় ভর করে আকাশকে ছুঁয়ে আসতে। খুব অদ্ভুত এক বিষণ্ণতা স্পর্শ করে যায় আমায়। সেই স্পর্শে থাকে শিহরণ, মৃদু মায়া আর হারানোর ভয়। যদি কোনদিন ঘুম ভেঙ্গে দেখি সেই আকাশ আর নেই, মাথার ওপর থেকে হারিয়ে গেছে সেই সুনীল সাগর...কি হবে আমার? কেন জানি আজকাল মনে হয় ঐ আকাশকে আঁকড়ে ধরে রাখি। চোখের আড়াল করতেই যদি সে হারিয়ে যায়!

লিয়াম নিসন একবার মে্যো সেলেমভিকের খুব সুন্দর কিছু কথা শেয়ার করেছিলেন। সেই কথাগুলো দিয়েই আজকের এই লেখার সমাপ্তি টানছি-

Everyone says love hurts, but that is not true. Loneliness hurts. Rejection hurts. Losing someone hurts. Envy hurts. Everyone gets these things confused with love, but in reality love is the only thing in this world that covers up all pain and makes someone feel wonderful again. Love is the only thing in this world that does not hurt.

If anyone ever ask me have I met angels, my answer will certainly go to ‘Yes’. I’ve seen them. They’re: PB Roy Sir from Surgery,


Kamol Krishna Uncle (explicit instruction to address so) from ENT, Pradip Dutta Sir from Nephrology, Sheuli Majumdar Ma’am from Neuro Medicine, L.A. Kaderi Sir from Neuro Surgery, Rokeya Ma’am from Gynae, Khalid Hasan Sir from Medicine, (Late) Mansur Khalil Sir, Kanta Roy ma’am from Anatomy. Making an end to that list will be hard for me today as Countless name


s on my angels list.

We carry out our ‘Bangaliana’ trend enjoying ‘Panta-Ilish’, Going out with loved ones but they carry on Hospital duty in ‘Pahela Baishakh’. Our Year beginning doesn’t bring any difference to them than regular on-duty days. We celebrate our year beginning, we wear our favorite color, going out in Panjabi and ‘Basanti color Sharee’, when they’re busy with the treatment of an ‘Adrenal Crisis’ patient.

We get ourselves busy with our loved ones in messenger, messages from their (Doctors) loved ones are left seen with no reply as They are busy to cure ‘heart’ of their MI patients.

We feel breeze with our beloved touring out for hill station while they are busy to reduce the distress of a COPD patient. We wanna enjoy our EID, chill out with friends and family, taste Semai, Payesh, Biriyani as much as we can and they always pull their duty. They feel irrepressible urge to cure patient who come with ‘acute abdomen’ or ‘abdominal perforation’. Only a doctor is there beside us when ‘Cataract’ fades out our colorful world to gray one.
A woman finds her life most meaningful being a mom, Who will be there when a Mom finds her at hospital in late night due to Obstructed labor? In case of Fetal Distress or Eclampsia, who will be at her bed side?

Isn’t S/he is a Dental Surgeon who keeps him/herself busy to perform RCT (Adult) or Pulpectomy (Child) when patient suffer from unbearable Dental Pain Caused by Acute Irreversible Pulpitis.

We pass our Eid/Puja vacations with loved one, they can only reach out to their surgical apparatus. They put on little smile and pull on their duty as if Gloves become Henna & Stethoscope takes place for locket. All of these sacrifice they do to cure a patient in minimum possible time. And we forget their human part easily, wonder why they can’t bring my patient back from death. We, people need them at our crucial moment of life and it’d be a dishonor to their contribution to a patient if I think I can write it here. If a patient needs to see his/her savior angel at late night beside his/her bed, it can only be a doctor.

Our behavior has not been so pleasant to them though we know them as a friend in need. They pass their bad times, we won’t oblige to share those. Being molested and mentally distressed, S/he finds own self in a path for a loner. Shameless behavior from governing body to abandon them, tends them to leave job, turning their back to their own home and going to abroad. I’ve seen very few of us being their well-wishers while they are facing all of these. Doesn’t a doctor belong to our society? Can we think of living our life without them? What if all of them decide to pull off their duty for a single day? Can we imagine what it will be? It seems media doesn’t focus their sufferings as a part of the society.

Wrong treatment is the most common complain against them. But how can a non-medical person judge them without proper medical knowledge?

If you think I’m interested in praising them as I have my fiancé studying medical science, please don’t. I haven't written this for any medel or prize neither I want to be a celebrity among their community. It's not like this large status will reverse their situation. I’m just trying to put me in their shoes in an embarrassing situation & feel their feelings. Our ‘butchers’ are sacrificing their happiness, festivals so happy smile lit up our faces.

I beg all of you to pray for my grumpy and sleepy-mind fiancé (She’ll kill me after reading this & I’m dying to die on her hand) as she needs to sacrifice herself for humanity. I wish she will have my support all along. I need to be her trusted one who will stand beside her in her path of sacrifice. Being brought up as a middle class family child, I can’t assure to fund her fully for her FRCS/MRCP. But I can promise her Dinner ready & the finest breakfast on table when there’ll be (her) night duty. I want her to utter proudly, ‘My husband is a non-medical’.

Near the end of my thoughts, but need to say few more. All profession needs a human to be intelligent and hard-working. Success won’t be achieved without harmony of both. But being a doctor requires pursuit too. Almighty doesn’t make us all equal to be worthy to be a doctor.
I can do very little from my academic background (Economics) for them. Perhaps my empty-worth academic qualification makes me only to post a lengthy status and nothing else. But if it seems that I can help in any way, please send a word.

 

I’ll be there, I promise.

 

Shawkat Ali Sadi,

A Non-Medical, A friend.

[ আগের পর্ব তিনটি না পড়েও যদি কেউ এই পর্বটি পড়ে থাকে, একটা নতুন গল্প হিসেবেই বুঝতে পারবে কাহিনী, তেমনভাবেই লিখা হয়েছে এই পর্ব। কিন্তু পরিপূর্ণ স্বাদের জন্য আগের তিনটি পর্ব পড়া আবশ্যক। নাহলে পড়ার আনন্দ কিছুটা মাটি হবেই। এই পর্ব পড়ার আগে পাঠকের সুবিধার্থেই আগের তিনটি পর্ব আগে পড়ে আসার অনুরোধ রইল। নিচের লিঙ্কগুলোতে পাওয়া যাবে এই সিরিজের আগের তিন পর্ব-
১। ইতস্তত বিপ্লবী
২। ইতস্তত বিপ্লবী ২ : উত্তেজক মৃত্যুযাত্রা
৩। ইতস্তত বিপ্লবী ৩ : অশুভ প্রত্যাবর্তন
আর না পড়লেও সমস্যা নাই। আবশ্যক কিছু নয়। ]

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরিবর্তনশীল জিনিস হচ্ছে নারীর মন। আর সবচেয়ে ধ্রুবক? সেটা নারীর কথা। না মেনে যাবার উপায় নেই কোথাও। কিন্তু বিশ্বের আনাচাকানাচে অবহেলিত নারী সম্প্রদায়ের জন্য আজ পালিত হচ্ছে নারী দিবস। আমরা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছি আজকে, যে দেখো- নারীরা আলাদা, ওদের জন্য দিবস পালন করা লাগে।

চোখে আঙুল দেবার কথা ভাবতেই হাসি পেল। আমার চোখে সত্যি সত্যি আঙুল দেওয়া যায়, আক্ষরিক অর্থেই। আমার চোখ দুটি তুলে নেওয়া হয় বেশ কয়েকবছর আগে। তাই চোখের জায়গায় সম্ভবত দুইটা কুৎসিত গর্ত আছে আমার, যদিও আমার কখনও সেটা দেখা হবে না। কিন্তু আমি পরিষ্কার অনুভব করি সেটা। অনুভব করা ছাড়া কোনকিছু বোঝার উপায় অন্ধ মানুষের থাকে না।

“বাবা, আমাদের বিড়ালটা বাইরে গিয়ে সুর করে ডাকছে, শুনছো?" 

আমার মেয়ে পূর্ণতার বিড়াল পালার শখ জন্মগত। বাবা- মা দুজনেরই বিড়ালপ্রীতি আছে। তাই ওর বিড়াল ভালোবাসা অবাক করে না কাউকে। সাদা- বাদামী রঙের একটা বিড়াল ওর খুব পছন্দ। সেটার গতিবিধি পুরোটাই নখদর্পণে মেয়ের। বিড়ালটির নাম সে দিয়েছে "পিশু পিশু"। আয়েশা, আমার বউ, বিড়াল খুব ভালোবাসলেও ঘরে জায়গা দিতে বেজায় আপত্তি তার। বিড়াল খুব পছন্দ করলেও তার বিড়ালদের একটা ছোট্ট বদঅভ্যাস আছে- একাধিক বার তারা জামাকাপড়ের ওপর মলত্যাগ করেছে। যতই বলি, "পটি ট্রেইনড" বিড়াল আনো, সে কোনভাবেই মানতে রাজি না। একবার হলো কি, বৈশাখ মাসে হঠাৎ চারদিক কালো হয়ে আসল। কালবৈশাখী হবে ভাবলাম। কিন্তু আজকাল আবহাওয়া এতটাই বেরসিক যে, শত সম্ভাবনা দেখিয়েও সে শেষমেশ এলো না। বারান্দায় গিয়ে দেখা গেল, একটা পাজামা কুণ্ডলী পাকিয়ে পড়ে আছে। পিশু পিশু বারান্দায় ছিল, সে পড়ে থাকা পাজামার উপর শিল্পকর্ম করেছে, তারপর সেটাকে ঢাকার চেষ্টা করেছে কুণ্ডলী পাকিয়ে। বিড়ালও নিজের আবর্জনা ঢেকে রাখতে চায়, অনেক মানুষ চায়না যদিও।

আমরা নতুন বাসায় উঠেছি অল্প কিছুদিন হল। এখনো শীতের আমেজ না যাওয়ায় ফ্যান/ এ সি কিছুই লাগানো হয়নাই। কিন্তু আমরা এখানে উঠার পরপরই কে যেন শীতের সুইচটা অফ করে রোদ আর গরম ডেকে আনল। আজ ফ্যান লাগানোর চিন্তা করছিলাম, কিন্তু ঘুম ভাঙার পর দেখি আকাশ কালো। আচ্ছা যা কালো তার কিছুই কি নয় ভালো? আমরা বাইরে যতই সাদার গুণগান করি, ভেতরে কিন্তু সবারই কালো। আমারও। বর্ণবাদ চর্চা করি আমরা এখানে মনে মনে, আর অস্ট্রেলিয়া আমেরিকায় গিয়ে শিকার হই সেটার। বর্ণবাদ বিরোধী কোন দিবস আছে কি? সাদা দিবস বলতে কোন দিবস নাই? না থাকলে আজকেই দুটি দিবস হোক। দিনের বেলা হবে বর্ণবাদ বিরোধী দিবস, আর আঁধার নামলে সন্ধ্যা থেকে চলবে সাদা দিবস। ঠিক মানুষের মনের মত- দিনে কালো আর রাতে সাদা। কোন কিছু হারিয়ে না গেলে আমরা কখনো তার মর্যাদা টের পাইনা। তাই এ ব্যবস্থা করতে হবে।

পিশু পিশু একটা সাদা কালো বিড়ালের দিকে তাকিয়ে সুর করে চেঁচাচ্ছে। চেঁচানোর ধরনটা অনেকটা মানুষের বাচ্চার অ্যাঁও ওঁয়াও এর মত। প্রিয়জনকে কত অদ্ভুত ভাবেই না কাছে ডাকে একেক প্রাণী! বাসায় থাকতে না দিলেও, বাসা পরিবর্তনের সময়ে ঠিকই তাকে সাথে করে আনতে হয়েছে পূর্ণতার আবদারে। আর এই মেঘলা দিনে একলা থাকতে মশায়ের ভালো লাগছেও না। তাই মেয়ে বিড়ালটিকে হয়ত নরমভাবেই ডাকছে উচ্চস্বরে। আজকের আবহাওয়াটা বড্ড চমৎকার। চলন্ত রিকশায় হুডের নিচে লুকানোর ছলে ঠিকই কাছাকাছি হবে নতুন প্রেম করা সলাজ জুটি। থেমে থাকা রিকশার ভেতরে গুটিসুটি মেরে বসে একটু জিরিয়ে নেবেন কোন ক্লান্ত রিকশাচালক। আজকের দিনে ভাড়ার রেট ভালো হবে। স্টার লাইটের বদলে তাই তার হাতে আশার প্রতীক হয়ে জ্বলতেই পারে একটা বেনসন এন্ড হেজেস। আয়েশা খুব যত্ন করে বাইরের প্রকৃতির বর্ণনা শুনাবে আমাকে। হয়ত গানও হবে দু চারটা। হোম ডেলিভারিতে শহরের সেরা কফিটা বাসায় আসতে হবে আজ। ঢাকা শহরের একাংশে ছোটখাট বন্যা হয়ে যাবে, অল্প যা কিছু গাছ আছে তার পাতাগুলো হয়ে উঠবে আরও সবুজ, টুপ করে গড়িয়ে পড়বে ফোঁটা ফোঁটা পানি তার গা বেয়ে। বৃষ্টি থেমে যাবার পর দমকা বাতাসে হয়ত সে ঝেড়ে ফেলবে একগাদা পানি। সেটা ছাপোষা কোন কর্মচারীর কাগজের ফাইলটা ভিজিয়ে দেবে আর সে খুব বাজে একটা গালি দিয়ে উঠবে আনমনে। পাশে ছাতা হাতে দাঁড়ানো সুন্দরীর দিকে চোখ পড়তেই আবার জিভে কামড় দেবে।

বৃষ্টি

পিঁপড়ের দৃষ্টিশক্তি খুবই সীমিত। আমার চেয়ে সামান্য ভালো আরকি। সে মোটামুটি সবকিছুই ঝাপসা দেখে। আর একটু দূরের কিছু দেখতেই পায়না। কিন্তু এদের ঘ্রাণশক্তি খুবই প্রবল। ভয় রাগ বিপদ সবকিছুর গন্ধ সে পায়। আমার চোখ না থাকার কারণে আমারও অন্য ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়েছে। আমি খুব করে চাই আমি এ সংসারে না থাকি। আমি বঞ্চিত করি এক লাবণ্যময়ী স্ত্রীকে, আর এক আদরের টুকরো ফুটফুটে মেয়েকে। কেউ কোনদিন মুখ ফুটে বলবে না, কিন্তু আমি স্পষ্ট জানি কখন কখন তারা এ অন্ধ আমাকে নিয়ে তারা হতাশা অনুভব করে। এই ক্ষেত্রে অবশ্য আমার একটা চীটকোড আছে। কেউ জানে না সেটা।

সেকারণেই যখন অন্য কারো সাথে ওরা ঘুরতে যায় আমার একটু কষ্টও লাগে না। বরং আমিই বলি ঘুরে এসো। আমি নাহয় কিছু দেখতে পারি না। কিন্তু পৃথিবীটা দেখার মত করেই বানিয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। তাই সময় থাকতেই যত পারো দেখে নাও। এক দিন দুদিন পাঁচ বছর হয়ত আবেগ নিয়ে চলতে পারো, কিন্তু সারা জীবন নয়। কেবল আবেগ দিয়ে যেটা চলে সেটা স্বর্গ- এ অপরূপ পৃথিবী না।

 

বৃষ্টির বিরতি পড়েছে। পিশু পিশু হাঁটতে হাঁটতে রাস্তার পাশের সেলুনটার সামনে গিয়ে দাঁড়াল, একটা বড়সড় আয়না লাগিয়েছে ওরা দরজার পাশে। সেটার দিকে চোখ বড় করে তাকাল ও। স্পষ্ট দেখতে পেলাম আমি, লেজের দিকটা ভিজে আছে ওর। আমি কাউকে কোনদিন বলিনি, আমি বিড়ালের চোখে পৃথিবী দেখি। ওকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনা, কিন্তু ও যা দেখে টা দেখতে পারি আমি। আমার এই সিক্রেটটা কেউ জানেনা। আয়েশাও না। কিন্তু আয়েশা দিন দিন আরও সুন্দরী হয়েছে সেটা আমি জানি। আমি দেখি প্রতিদিন। আমার ছোট্ট মেয়ের ঝকঝকে দাঁতের হাসিও দেখি। সে জানে না। লুসিফারের হাত থেকে বাঁচলেও বিড়ালের চোখে দুনিয়া দেখার এ ক্ষমতাটা রয়ে গেছে আমার- কারো জানা দরকার নেই। কাজটা কি আমি ঠিক করছি? না। এটা আমার চীটকোড- আমার কালো অধ্যায়। কিন্তু কেউ জানেনা যে তাদের কালো অধ্যায়গুলো আমি ঠিকই দেখি। তাদের আমি কিছু বলিনি কোন দিন। সবারই প্রয়োজন থাকে। যেমন আমার প্রয়োজন জানা আর দেখা। তাই আমি শুধু দেখেই খুশি, জেনেই মানি।

সবারই এরকম একটা ক্ষমতা থাকে। একটা অতিরিক্ত জোড়া চোখ। সেটি দিয়ে সে সন্দেহ করে। সমস্যাটা হয় যখন মানুষ এই অতিরিক্ত চোখ দিয়ে দেখতে দেখতে নিজের আসল চোখের কথাই ভুলে যায়। আর আমার কথা আলাদা। আমার আছেই কেবল এই অতিরিক্ত চোখ জোড়া।

আমি সবকিছু বুঝি। অনেক কিছুই দেখি। কেবল জানি না ওর অপূর্ব সুন্দর চোখগুলোর দিকে আমার আসল চোখ দিয়ে সরাসরি চেয়ে থাকতে কেমন লাগে। আর জানিনা ওদের কথা ভেবে আমার চোখ ভিজে ওঠার অনুভূতিটা।

যার যা নেই সে তো তা চাইবেই!
যার যা নেই

তুই আমাকে পাগল ডাকিস-
ছাগল ডাকিস শখ করে,
যখন তখন কান মলে দিস;
ইচ্ছে হলেই খপ করে।

আমি ডাকি নামটি ধরেই-
তবুও তুই দিসনা সাড়া।
নজর পেতে কাঁধ ছুঁতে যাই-
তুই রেগে লাল- "হতচ্ছাড়া...

আমি কি তোর গোলাম নাকি?
ডাকলে সাড়া দিতেই হবে?
ময়লা হাতে ফের ছুঁলে তোর
আঙ্গুল গুলো চুলোয় যাবে।"

আবার তুইই প্রায় সকালে,
পাখিও যখন ঘুমায় ডালে,
বলিস স্বপ্নে কি দেখেছিস,
কারা আমাকে খাইয়েছে বিষ,
কিংবা জ্যান্ত ফেলেছে পুতে,
গেলেছে ভুঁড়ি পেয়েই জুতে!

আমি কিন্তু বুঝতে পারি,
আমাকে তোর ভালোই লাগে।
তিরষ্কারে যতই পোড়াস-
তোর চোখে ঠিকই আদর জাগে।

পাগল ডাকিস, ছাগল ডাকিস
কত কিছুই ডাকবি আজ;
চলছে ফাগুন, সেই সুবাদে-
ঢং তামাশায় মলিন লাজ।

সত্যি যদি পাগল হতাম,
তখন ঠিকই তাড়িয়ে দিতি;
কিংবা ছাগল হলে জানি,
গলায় ছুড়ি চালিয়ে দিতি।

ইদানীং প্রায়ই সকালে আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়। আব্বা-আম্মা সকাল ৬টার আগেই ঘুম থেকে উঠে নামাজ কালাম পড়েন। তাদের দরজা খোলার শব্দ, কথা, কুরআনের আওয়াজে আমার ঘুম ভাঙ্গে। ঘুম ভাঙ্গার পরে শুনতে পাই আব্বা কিংবা আম্মা কুরআন পড়ছেন।

গত কয়েকদিন ধরে সকালে ঘুম ভাঙ্গলে দেখি আম্মা সোফায় বসে মৃদু শব্দে কি যেন পড়ছেন। ঘুম ঘুম চোখে দেখে বুঝলাম এটা কুরআন শরীফ না। কুরআন শরীফ আকারে বড় হয়,কিন্তু এই বইটি ছোট আকৃতির। তবে কি বই পড়ছে আম্মা ঘুম জরানো চোখে আমি লক্ষ্য করিনি। ভাবলাম হয়ত কোন হাসিদের বই পড়ছেন।

কয়েকদিন পরের ঘটনা। সকাল ঘুম থেকে উঠে দেখি আম্মা সোফায় বসে আছেন। চোখ ছলছল করছে। যেন এখুনি কেঁদে দিবেন এমন অবস্থা। আম্মার মন খারাপ কেন? ভেবে বের করতে পারলাম না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আমি বললাম, আম্মা অনেক ক্ষুধা লাগছে নাস্তা দাও।

আম্মা জড়ানো মাখা গলায় বললেন, এই বইটা পড়ে শেষ করে তারপর দিচ্ছি। কয়েকদিন ধরে বইটা পড়ছি কাজের জন্য শেষ করতে পারছি না।

আমি আম্মার দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করলাম আম্মার হাতে আয়েশা ফয়েজ এর লেখা শেষ চিঠি বইটা। বইমেলার তৃতীয় দিনে মেলায় গিয়েছিলাম তখন বইটা কিনেছিলাম।

আম্মা সাধারণত গল্প বা উপন্যাসের বই পড়েন না। বেশিভাগ সময় দেখি হাদিসের বই পড়েন। আমার বুঝতে বাকি রইলো না এই বইটিই আম্মার চোখ ছলছলের কারণ।

আমি আম্মাকে প্রশ্ন করলাম, আম্মা বইটা কেমন?

আম্মার বলেন, অনেক বেশি সুন্দর লেখা এবং কষ্টের অনুভূতি। তাই তো শেষ না করা পর্যন্ত উঠতে পারছি না।

আম্মার চেহারা দেখে আমি বুঝতে পারলাম আম্মা এটাও বলতে চাচ্ছিলেন যে, বইটা পড়ে কান্না পাচ্ছে রে বাবা। অনেক বেশি কান্না পাচ্ছে। সন্তান হারানো যে কি ভীষণ কষ্টের কি ভীষণ কষ্টের।

কিন্তু সন্তানের সামনে মায়েদের দু:খের কথা বলতে হয় না। এতে সন্তানরা কষ্ট পাবে তাই আম্মা হয়ত এই কথাগুলো বলেনি।

আমার আম্মাকে যে বই কাঁদতে পারে এটি কোন সাধারণ বই নয়। এটি আসলে একটি বই বা গল্প নয়। প্রিয় পুত্র হুমায়ূন আহমেদকে লেখা এক মায়ের হাহাকারের চিঠি। পুত্র হারানো শোকে এক মায়ের নীরব কান্নার হাহাকার। আহা! কি কষ্টের এই হাহাকার । কি কষ্টের এই অনুভূতি।

অনেক মায়েরা এরূপ অনুভূতি নিয়ে বেঁচে থাকেন। পুত্র হারিয়ে যায়। বেঁচে থাকতে হয় একা। কেউ বা বৃদ্ধাশ্রমে দিন কাটায়। পুত্র থেকেও নেই। কিন্তু প্রকাশ করতে পারে না তাদের অনুভূতিগুলো। আয়েশা ফয়েজ এরূপ মায়েদের অনুভূতি যেন নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন তাঁর এই চিঠিতে।

আয়েশ-ফয়েজ-শেষ-চিঠি

দুই:
হুমায়ূন আহমেদের মা আশেয়া ফয়েজ নুহাশ পল্লী গেছেন। ওনার সামনে হুমায়ন আহমেদের করব। ওনি চাইছেন পুত্রের কবরটা একটু স্পর্শ করতে।কিন্তু তিনি তা পারছেন না। সমাধিটা এত বড় যে তিনি করবটা ছুঁতে পারছেন না। দু:খ-ভারাক্রান্ত মনে তিনি শাওনকে বলেন, দেখো এই সমাধিটা বেশি বড় হয়ে গেছে, আমি হাত দিয়ে কবরটা ছুঁতে পারছি না। সমাধিটা একটু ছোট করো।

শাওন বলেছিলো সমাধিটা ছোট করবে। কিন্তু আর তা করা হয়নি।

আয়েশা ফয়েজ লিখেলেন,আমি যখন কবরটা দেখি তখন আমার বুকটা কেমন জানি ব্যথা করে। আমার মনে হয় আমার বাচ্চাটা বুঝি কষ্ট পাচ্ছে। জানি আমার কথার মাঝে কোন যুক্তি নেই। তবুও আমার কষ্ট হয়। সম্রাট হুমায়নের সমাধি কেমন হবে সেটা কল্পনা করার ক্ষমতা আমার নেই। কিন্তু আমার হুমায়নের সমাধি কেমন হবে সেটা কল্পনা করার ক্ষমতা ছিলো। সমান মাটির মাঝে কবরটা একটু খানি উঁচু আর পুরো জায়গাটা সবুজ ঘাস দিয়ে গালিচার মতো ঢাকা। আমি কাছে বসে কবরটা হাত দিয়ে ছুঁয়ে বসে থাকতাম আর বলতাম, আমার বাবাটা ঘুমিয়ে আছে। আমার আদরের মানিক শান্ত হয়ে শুয়ে ঘুমিয়ে আছে।

তিন:
এবার বইমেলায় গিয়ে চোখ পড়লো হলুদ খাম ও ছাই রংয়ের পাতা মিশ্রিত একটি প্রচ্ছদের দিকে। বইটি প্রথম পাতায় বড় বড় হলুদ বর্ণে লেখা “শেষ চিঠি” তারপর নিচে কালো রংয়ে লেখা আয়েশা ফয়েজ। এই মা ২০১৪ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন। মৃত্যুর আগে পুত্রের শোকে কাতর হয়ে ছিলেন তিনি। অনেক কিছু বলতে চেয়েছিলো হুমায়ূন আহমেদকে। কিন্তু তা বলা হলো না। সেই না বলা কথাগুলো রয়েছে এই বইতে।

এই বইতে লেখা চিঠি যিনি লিখেছেন তিনি নেই পৃথিবীতে। আবার যাকে চিঠি লিখেছেন সেও নেই এই পৃথিবীতে। দুইজনই ভিন্ন এক রহস্যময় পৃথিবীতে রয়েছে। মায়ের এই চিঠি কি হুমায়ূন আহমেদ দেখতে পাচ্ছেন? মা কি জানতে পারছেন চিঠি পাওয়া পারে পুত্রের অনুভূতি কেমন ছিলো? তাঁর পুত্র চিঠি পাওয়া পরে উত্তর দিবেন?

বইয়ের নাম: শেষ চিঠি
লেখক: আয়েশা ফয়েজ
প্রচ্ছদ: আহসান হাবীব
প্রকাশনী:তাম্রলিপি
মূল্য:১৬০ টাকা
রকমারি ডটকমের এই ঠিকানা থেকে বইটি কেনা যাবে।

অফিস থেকে বাসায় ফিরছি। বিকেল সোয়া পাঁচটা কি সাড়ে পাঁচটা বাজে। মহাখালি ফ্লাইওভারের উপর বিদঘুটে জ্যামে আটকা পড়ে আছি। গত কয়েক মাসে জীবনটা অনেক বদলে গেছে। বদলে গেছি আমিও। এই বদলে যাওয়ার গল্পটা সবসময় ঘুটঘুটে কালো চাদরে ঢেকে রাখি। যেন ঘুণাক্ষরেও দেখা না যায়। কিন্তু এই অদ্ভুতুরে ভাবনাগুলো প্রায়শ বেরিয়ে আসে ঐ কালো চাদরের মাঝ থেকে। আর জ্যামে বসে থেকে কোথায় একটু বিরক্ত হব! না! ধুপধাপ করে ঐ অগোছালো চিন্তাগুলো মনের আকাশটা অযাচিত দখলে নিয়ে নিল।

একটা সময় ছিল। দারুণ এক স্বপ্নের জগতে ছিলাম। সেই স্বপ্নের শুরু থেকে শেষ- পুরো যাত্রায় আমি ছিলাম আমার আমি। সেই আমি ছিলাম মুক্ত। জীবন থেকে যেন আর কোন চাওয়া-পাওয়াই ছিল না। এতটা পরিপূর্ণতার মাঝ থেকে কখন যে নাড়ির বাঁধনটা ছিঁড়ে গেল বুঝতে পারি নি! হঠাৎ করে চোখের সামনে থেকে অবাস্তবতার পর্দা উন্মোচিত হতে লাগল আর আমিও বুঝলাম আমার স্বপ্নের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। যতটা সম্ভব চাচ্ছিলাম নিজেকে আগলে রাখতে। নিজেকে যে বড্ড বেশি ভালবাসি! বুঝতে পারছিলাম এই বদলে যাওয়া আমি সহ্য করতে পারব না। কিন্তু কিছু করার ছিল না। সব কিছু খুব দ্রুত ঘটছিল। আমি অসহায়ের মত নিজেকে বাস্তবের দ্বারে সপে দিলাম। বাস্তব মহানন্দে আমাকে সম্ভাষণ জানাল। এলোমেলো, অস্থির, আনমনা একটা জীবনে আমার যাত্রা শুরু হল। প্রথমে খুব উদ্ভ্রান্তের মত ছিলাম। আশেপাশের প্রিয় মুখগুলো কেমন যেন হারিয়ে যেতে লাগল। তখন বুঝলাম এই পথ হয়তো একলাই হাঁটতে হবে। বারবার ভেঙ্গে পড়ছিলাম। কেমন যেন মুখচোরা হয়ে গিয়েছিলাম, এখনও আছি। এরপর মনে হল, আর কত! অনেক হয়েছে! আমি এভাবে শেষ হয়ে যেতে পারি না। তাই শক্ত হলাম। আমাকে অনেক শক্ত হতে হবে। মাঝে অনেক মনে হত, কিবোর্ডটা টেনে নিয়ে কিছু লিখব। কয়েক লাইন লিখে আবার মুছে ফেলতাম। আবেগের থলেটা ফাঁকা পড়ে আছে। কি লিখব? এতটা বিভ্রান্ত, অনিশ্চিত সময় আগে কখনও আসেনি। নাহ! বুঝলাম আমাকে আরও শক্ত হতে হবে। ভীরু-কাপুরুষের মত বেঁচে থাকার যেমন কোন মানে হয় না, আত্মবিশ্বাসহীন জীবনও তেমনি অস্তিত্বহীন। স্রষ্টাপ্রদত্ত এই সুন্দর উপহারকে কিছু হতাশা, না পাওয়ার কষ্টে বিসর্জন না দিলেই নয়?

ফ্লাইওভারের জ্যামটা একটু একটু ছাড়তে শুরু করেছে। শুধু শুধু জ্যামে আটকে মনটা খারাপ হল। বাসায় যেতে হবে। ফ্লাইওভারের ঢাল দিয়ে যখন সি এন জি নামছে, সামনে দেখলাম অস্তনিমিত, শান্ত, মৃদু লাল রঙের সূর্য। অদ্ভুত ভাল লাগায় মনটা ভরে গেল। মাঝে মাঝে জীবন থেকে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। একদম দূরে কোথাও। যেখানে আমি হব আগন্তুক। যেখানে আমি জীবনের পিছু পিছু আর দৌড়ব না। বরং জীবনকে আমার করে নিব। আর আমার সঙ্গী হয়ে থাকবে শেষ বিকেলের এই সূর্যটা আর উপরের খোলা আকাশটা। ঝকঝকে পরিষ্কার কিংবা ঝলমলে তারাভরা কিংবা চন্দ্রাহত রাত সাথে পেলেও মন্দ লাগবে না।

আমাদের দেহে প্রতিটা অংগেরই নির্দিষ্ট কিছু কাজ আছে। পা দিয়ে হাটি, হাত দিয়ে লেখি, পেট দিয়ে খাবার হজম করি। যেসব অংগের মাধ্যমে পরিবেশ সম্পর্কে ধারনা নেই তাদের বলি ইন্দ্রিয়। আমরা চোখ দিয়ে দেখি, চোখ আমাদের দর্শনেন্দ্রিয়। কান দিয়ে শুনি, কান আমাদের শ্রবনেন্দ্রিয় ইত্যাদি। আমরা কিন্তু চামড়া দিয়ে ঘ্রাণ নেয়া, কিংবা পাকস্থলি দিয়ে স্বাদ নেয়ার কথা ভাবিনা। ভাবার দরকারও পড়েনা। তবে আশ্চর্যের বিষয় এটাই, এক ইন্দ্রিয়ের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কোষ অন্য অংগেও থাকে। আমরা তাদের ইচ্ছা করলেই ব্যবহা করতে পারিনা, কিন্ত তারা কাজ করে যাচ্ছে আমাদের অজান্তেই। এইরকম কয়েকটি ব্যাপার নিয়েই এই লেখাটি।

smell

ঘ্রানগ্রাহী ছড়িয়ে আছে সারা দেহে...

গন্ধ শুকে চলো...
আমরা নাক দিয়ে ঘ্রাণ নেই। ঘ্রাণ নিতে পারার ক্ষমতার সাথে জড়িত আছে বিভিন্ন সংগ্রাহী(receptor)। এদের গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরিতে যেসব জিন জড়িত তার প্রথম বর্ণনা দেন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিচার্ড অ্যাক্সেল এবং লিন্ডা বাক। তা প্রায় আজ থেকে ২৫ বছর আগে ১৯৯১ সালে। স্বাভাবিক ভাবেই সে সময়ে ধারণ ছিলো এই ঘ্রাণজ সংগ্রাহী(olfactory receptor) শুধুমাত্র নাকের মধ্যে থাকে। কিন্তু তার কিছুদিন পরেই সবাইকে অবাক করে দিয়ে অন্যান্য বিভিন্ন টিস্যুতেও ঘ্রাণজ সংগ্রাহী(Olfactory receptor) এর খোঁজ পাওয়া যেতে থাকে। উদাহরন হিসেবে বলা যায় ১৯৯২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রের কথা, তাতে ব্রাসেলস এর একটি ইউনিভার্সিটির গবেষকরা কুকুরের শুক্রাণুতে ঘ্রাণজ সংগ্রাহীর অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। তবে তা শুধু তৈরি হয়েই বসে আছে, নাকি কোন কাজ করছে সেটা তখনো অজানা ছিলো।

এই ঘটনায় মুগ্ধ হয়ে জার্মানির রাহর ইউনিভার্সিটির হ্যান্স হ্যাটস সিদ্ধান্ত নেন তিনি মানুষের শুক্রাণুতেও ঘ্রাণজ সংগ্রাহী আছে কি না তা দেখবেন। অনেক পরিশ্রম করে শেষ পর্যন্ত ২০০৩ সালে তিনি সফল হন এমনকি এটাও দেখতে পান ঘ্রাণ অণুর(smell molecule) উপস্থিতিতে এরা ঠিক নাকের মতই সক্রিয় হয়। তবে প্রথমদিকে অন্যান্য বিজ্ঞাণীদের এটা বিশ্বাস করানো বেশ কষ্টকর ছিলো যে নাক ছাড়াও অন্য টিস্যুতে ঘাণজ সংগ্রাহী থাকতে পারে। পরের দশকে হ্যাটসের দল এবং অন্যান্য অনেকে বিভিন্ন টিস্যুতেও ঘ্রাণজ সংগ্রাহী উপস্থিতি আবিষ্কার করেন। যেমনঃ ফুসফুস, লিভার, চামড়া, হৃদপিন্ড ও অন্ত্র। এমনকি কিছু কিছু টিস্যুতে ঘ্রানজ সংগ্রাহী গুলোই সবচেয়ে বেশি মাত্রায় প্রকাশিত জিন।

এখন প্রশ্ন আসতেই পারে, বিভিন্ন টিস্যুতে ঘ্রাণজ সংগ্রাহীগুলো কি করছে? সমস্যা হলো এদের কাজ বুঝতে হলে আগে বের করতে হবে কিসের মাধ্যমে এরা সক্রিয় হয়। মানুষের রয়েছ ৩৫০ ধরনের ঘ্রাণজ সংগ্রাহী, অন্যদিকে ইদুরে এর সংখ্যা প্রায় ১০০০। এখন পর্যন্ত গবেষকরা এদের মাত্র ১০-২০ শতাংশের জন্য সক্রিয়ক ঘ্রাণ অণু খুজে পেয়েছেন। হ্যাটস তার পরীক্ষায়, জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে মানুষের পরীক্ষামূলক কোষে বিকাশিত ঘ্রাণজ সংগ্রাহীগুলোকে হাজার রকমের ঘ্রাণ অণুর সংস্পর্শে নিয়ে আসেন। বেশিরভাগই বানিজ্যিক কৃত্রিম সুগন্ধী যেগুলো পারফিউম এবং কসমেটিক্স এ ব্যবহার করা হয়। এই পদ্ধতিতে তিনি একটা ঘ্রাণ অণু পেয়েছেন যেটা শুক্রাণুর ঘ্রাণজ সংগ্রাহী কে সক্রিয় করতে পারে। এই গন্ধ Lily of Valley ফুলের মত। দেখা গেছে শুক্রাণু এই গন্ধের দিকে সাঁতার কেটে যায় এবং মাত্রা বাড়ালে গতিও বাড়ে। হ্যাট অনুমান করেন, এই বৈশিষ্ট্য শুক্রাণুকে ডিম্বানুর দিকে ধাবিত হতে প্রভাবিত করে, তবে গবেষকরা এখনো এই অণুকল্প প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন এবং মানবদেহে এই সুগন্ধির প্রাকৃতিক প্রতিরূপ খুজে চলেছেন।

হ্যাটস এবং তার দল স্যান্ডালোর নামের আরেকটি কৃত্রিম সুগন্ধী পেয়েছেন যার প্রভাবে চামড়াতে যেসব ঘ্রানজ সংগ্রাহী রয়েছে সেগুলো সক্রিয় হয়। এদের সক্রিয়করণের ফলে ধারণকারী কোষগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি এবং ক্ষত পূরনে নিযুক্ত হয়। এটার ক্ষেত্রেও মানবদেহে এর প্রাকৃতিক প্রতিরূপ এখনো আবিষ্কারের অপেক্ষায় আছে।

অন্যান্য টিস্যুতে পাওয়া কিছু কিছু ঘ্রানজ সংগ্রাহীও প্রায় একই রকম কাজ করে। এমরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেস পাভলাথ গবেষনা করছিলেন কিভাবে একাধিক পেশীতন্তু একীভূত হয়ে বহুনিউক্রিয়াস সমৃদ্ধ কোষ তৈরি করে। সেসময় তিনি দেখতে পান পেশীতে একটি ঘ্রানজ সংগ্রাহী বেশি মাত্রায় প্রকাশিত হচ্ছে যেটা হ্যাটস শুক্রাণুতে পেয়েছিলেন। গ্রেস বর্ণনা দেন এই সংগ্রাহীগুলোর কারনে পেশীতন্তুগুলো একটি বিশেষ ঘ্রাণের দিকে স্থানান্তরিত হয় এবং পুনর্যোজনে(regeneration) অংশ নেয়। পরীক্ষা করে দেখা গেছে , এই সংগ্রাহী ছাড়া ইদুরে পেশীতন্তুগুলো ক্ষয়প্রবন হয় এবং দূর্বল পুনর্যোজন দেখায়। এই গ্রাহকের সক্রিয়ক প্রাকৃতিক প্রতিরূপ খুজে পেলে পেশী পুনর্যোজনের চিকিৎসায় কাজে লাগতে পারে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে গবেষকরা বিভিন্ন ঘ্রানজ সংগ্রাহীর জন্য প্রাকৃতিক প্রতিরূপ পেয়ে গেছেন। যেমনঃ কিডনিতে Olfr78 নামক ঘ্রানজ সংগ্রাহী সক্রিয় হয় অন্ত্রে বসবাসরত ব্যাক্টেরিয়ার নিঃসৃত বিশেষ ধরনের ফ্যাটি এসিডের প্রভাবে। এই সংগ্রাহী নির্দিষ্ট কিছু শর্ট চেইন ফ্যাটি এসিডের উপস্থিতিতে সক্রিয় হয় এবং রক্তচাপ বৃদ্ধির জন্য সংকেত পাঠায়। অন্ত্রের ব্যাক্টেরিয়াগুলো শর্ট চেইন ফ্যাটি এসিড তৈরি করে যখন তারা আঁশ জাতীয় খাবার হজম করে। তাই একসময় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে আঁশ জাতীয় খাবারের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ন হয়ে উঠতে পারে।

হ্যান্স হ্যাটস তার গবেষনায় এমন কিছু ঘ্রাণ সংগ্রাহীও পেয়েছেন যেগুলো ক্যান্সার কোষে থাকে এবং তাদের সক্রিয় করার ফলে ক্যান্সার টিস্যুর সংকুচিত হয়ে যায়। যদিও সত্যিকারের ক্যান্সার থেরাপীতে এদের নিয়ে আসার জন্য আরো বহু গবেষনা প্রয়োজন। সুদূর ভবিষ্যতে আমরা হয়তো সুগন্ধি মেখেই ক্যান্সার দূর করতে, কেটে যাওয়া ক্ষত পূরন কিংবা প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সক্ষম হতে পারি। তবে আপাতত এই তথ্যগুলো পারফিউম কোম্পানিগুলো না জানলেই ভালো।

আলোয় উপশম...
আমাদের চোখে অনেক রকম আলোকসংবেদী কোষ থাকে। এরা হচ্ছে অপসিন, রোডপসিন, মেলানোপসিন। এদের আবিষ্কার কিন্তু ধাপে ধাপে হয়েছে। যেমন ১৯৯০ সালের শেষের দিকে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইগনাসিও প্রভেন্সিও স্তন্যপায়ী প্রাণীতে মেলানোপসিন খোজা শুরু করেন। তখন পর্যন্ত ধারনা ছিলো যে মেলানোপসিন সাধারনত উভচরের চোখে পাওয়া যায়, তাই সেসময় দৃষ্টি নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের দৃষ্টিতে ইগনাসিওর কাজ ছিলো নিতান্তই দূরদৃষ্টির অভাব। তবে ১০ বছর পর তিনি মানুষের রেটিনাতেও রড এবং কোন কোষে অপসিনের পাশাপাশি মেলানোপসিনের অস্তিত্বের প্রমাণ দেন। এর পর মানবদেহে মেলানোপসিনের কাজ সম্পর্কে ধীরে ধীরে জানা যায়। এটা ঘুম জাগরন চক্র, চোখের তারার সংকোচন, দক্ষতা অর্জন এমনকি বিপাকেও ভুমিকা রাখে।

melanopsin

রক্তনালীতে মেলানোপসিন

তবে রেটিনা ছাড়াও অন্যত্র যে মেলানোপসিন থাকতে পারে সেটা বের হয় চমৎকার একটা ঘটনার মাধ্যমে। জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্যান বার্কোভিৎজ তার ল্যাবে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য স্বয়ংক্রিয় বাতি লাগান, যেগুলো মানুষের উপস্থিতিতে জ্বলে উঠে। তার এক ছাত্র একদিন লক্ষ করলেন গবেষনার জন্য যে রক্তনালীতে ফোর্স ট্রান্সডিউসার লাগানো এবং সারাক্ষনই তথ্য দিতে থাকে, সেটাতে বাতি জ্বলে উঠলে রক্তচাপ কমে যায়! যদিও ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ফটোরিলাক্সেশন ব্যপারটার অস্তিত্ব বিজ্ঞানীমহলে পরিচিত কিন্তু অন্তর্নিহিত রহস্যটা কারো জানা ছিলোনা। বার্কোভিৎজ এবং তার দল এরপরে অনুসন্ধান করে সেই রক্তনালীতে মেলানোপসিন প্রোটিন এবং তার সৃষ্টির জন্য দায়ী জিন Opn4 কে শনাক্ত করেন। নীল আলোর প্রভাবে মেলানোপসিনের উপস্থিতিতে রক্তনালী প্রসারিত হয় যার ফলে রক্তচাপ কমে যায়। জেনে রাখা ভালো মেলানোপসিন নীল আলো সংবেদী এবং ঘুম জাগরনের সাথে জড়িত বলেই ঘুমানোর আগে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার নিষেধ করা হয়।

ইদুরের লেজকে নীল আলোয় আলোকিত করে দেখা যায় আসলেই তখন লেজের রক্তচাপ কমে যায়। কিন্তু ঘটনা হলো ইদুরের লেজের রক্তনালীগুলো চামড়ার কাছকাছি যার ফলে আলো প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু বেশিরভাগ রক্তনালীই দেহের এত ভেতরে যেখানে কোনভাবেই আলো প্রবেশ করতে পারেনা। তাহলে সেখানে এই আলোকীয় সংগ্রাহী কিভাবে কাজ করতে পারে? বার্কোভিৎজ বলেন, এটা হতে পারে বিবর্তনের পদচিহ্ন কিংবা আলো ছাড়াও দেহে এমন কিছু আছে যেটা এদের সক্রিয় করতে পারে অথবা কোন অজানা পদ্ধতিতে দেহের ভেতরেই নীল আলো তৈরি হয় হয়তো! যা আমরা জানিনা।

এর সত্যিকার কাজ সম্পর্কে সন্দেহ থাকলেও বার্কোভিৎজ চেষ্টা করছেন এমন কোন বুদ্ধি বের করতে যাতে রক্তচাপ জনিত রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের চিকিৎসায় এই মেলানোপসিন সংক্রান্ত ফটোরিলাক্সেশনকে কাজে লাগানো যায়। রেনড'স ডিজিজ এ আক্রান্ত ব্যাক্তিদের ঠান্ডার প্রভাবে হাত ও পায়ের আঙ্গুলে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয়ে এবং তারা অবশ কিংবা ব্যাথা অনুভব করেন। তারা এমন মোজা পড়তে পারেন যা তাদের আঙ্গুল নীল আলোয় আলোকিত করে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক করে আনবে ও ব্যাথার উপশম ঘটাবে। নবজাতক শিশুরা যারা পালমোনারি হাইপারটেনশনে ভুগে তাদের ক্ষেত্রেও আলোকীয় চিকিৎসা কাজে লাগতে পারে। রক্তচাপজনিত রোগগুলোতে বর্তমানে যেসব ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা চালানো হয় তাতে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই আলো হতে পারে এসব ক্ষেত্রে একটি নিরাপদ বিকল্প। তবে তার জন্য আমাদের কতদিন অপেক্ষা করতে হবে তা আগে থেকেই বলা যাচ্ছেনা।

স্বাদেই নিস্তার...
আমরা খাওয়ার সময় যে বিভিন্ন খাবারের স্বাদ নেই, সেই স্বাদ নেওয়ার কাজটি করে থাকে বিভিন্ন স্বাদ সংগ্রাহী। নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন এইবার বলবো এরা মুখ ছাড়াও দেহের অন্য কোথায় কোথায় আছে । তারা পেটের ভেতরে আছে, শুক্রানুতে আছে, শুক্রাশয়ে আছে, চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে দেহের ভেতর এদের কাজটা বের করা। কিছু কিছু কাজ জানা গেছে, যেমন পেটের ভেতরে যেসব স্বাদ সংগ্রাহী আছে তারা খাবারের পুষ্টি উপাদান শনাক্ত করে। আবার কিছু কিছু কাজ অর্ধেক জানা গেছে, যেমন ইদুরের শুক্রাশয়ে যেসব স্বাদ গ্রাহক আছে তাদের নিষ্ক্রিয় করে দিলে ইদুরগুলো আর প্রজননক্ষম থাকেনা। কেন এমন হয়? তার উত্তর জানা নাই।

কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের টমাস ফিঙ্গার শুরুর দিকে মাছে এক ধরনের সংবেদনশীল কোষ নিয়ে কাজ করা শুরু করেন যার জৈবরাসায়নিক এবং গাঠনিক দিক থেকে আমাদের স্বাদ কোড়কের সাথে মিল আছে। তিনি এর নাম দেন নিঃসংগ রাসায়নিক সংবেদী কোষ(solitary chemosensory cell)। ২০০৩ সালে তিনি দেখতে পান একই ধরনের কোষ স্তন্যপায়ীদের নাকেও রয়েছে। । তবে আমাদের চিন্তা এর নিঃসংগতা নিয়ে নয়। জেনে রাখা ভালো আমরা যে টক, ঝাল, মিষ্টি বিভিন্ন স্বাদ গ্রহন করি তার জন্য আলাদা আলাদা স্বাদ সংগ্রাহী আছে। ২০০৩ সালে ফিংগার ইদুরের শ্বাসনালীর উপরের দিকে অবস্থিত নিঃসংগ রাসায়নিক সংবেদী কোষের মধ্যে তিতা স্বাদ সংগ্রাহী শনাক্ত করেন যেগুলো গ্রাম নেগেটিভ ব্যাক্টেরিয়া নিঃসৃত এক ধরনের রাসায়নিকের প্রভাবে সক্রিয় হয় এবং অনাক্রম্য প্রতিক্রিয়া(Immune Response) শুরু করে।

taste

নিঃসংগ রাসায়নিক সংবেদী কোষের মধ্যে তিতা স্বাদ সংগ্রাহীগুলো গ্রাম নেগেটিভ ব্যাক্টেরিয়া নিঃসৃত এক ধরনের রাসায়নিকের প্রভাবে সক্রিয় হয় এবং অনাক্রম্য প্রতিক্রিয়া শুরু করে।

ইদুরে সাফল্যের পর স্বাভাবিক ভাবেই পরবর্তিতে ফিংগার মানুষের উচ্চতর শ্বাসনালীর নিঃসংগ রাসায়নিক সংবেদী কোষেও তিতা স্বাদ সংগ্রাহী খুঁজে পান এবং পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নোয়াম কোহেন শনাক্ত করেন মিষ্টি স্বাদ গ্রাহক। ধারনা করা হয় এরা একই সাথে কাজ করে আমাদের অনাক্রম্যতাতে(Immunity) ভূমিকা রাখে। গ্লুকোজ কিংবা সুক্রোজের মাধ্যমে মিষ্টি স্বাদ সংগ্রাহী সক্রিয় হলে একই কোষের তিতা স্বাদ সংগ্রাহী নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। কোহেন দেখেন যে স্বাভাবিক স্বল্প মাত্রার গ্লুকোজই তিতা স্বাদ সংগ্রাহীকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। তখন আর অনাক্রম্য প্রতিক্রিয়া শুরু হয়না, অনুজীব প্রতিরোধী পেপটাইডের নিঃসরনও বন্ধ থাকে। শ্বাসনালীতে ব্যাক্টেরিয়া প্রধানত গ্লুকোজ খেয়ে বেঁচে থাকে। ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বাড়তে থাকলে গ্লুকোজ কমতে কমতে একসময় তিতা স্বাদ গ্রাহক মুক্ত হয়ে গেলে এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হয়। সাইনুসাইটিস কিংবা ডায়বেটিসে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের স্বাসনালীতে গ্লুকোজের পরিমান বেশি থাকায় তারা প্রায়ই এ ধরনের সংক্রমনের শিকার হন যা সহজে সাড়েনা।

নিঃসংগ রাসায়নিক সংবেদী কোষ ছাড়াও আরেক জায়গায় তিতা সংগ্রাহী পাওয়া যায়। উচ্চতর শ্বাসতন্ত্রে চুলের ন্যায় এক ধরনের কোষ থাকে যাদের সিলিয়া বলে এরা ব্যাক্টেরিয়া এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর জিনিস যুক্ত মিউকাস বাহিরে বের করে দেয়। আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা দল সিলিয়াতেও তিতা স্বাদ গ্রাহকের অস্তিত্ব পেয়েছেন যেগুলো ব্যাক্টেরিয়ার খোঁজ পেলে অনাক্রম্য প্রতিক্রিয়া শুরু করতে পারে। এই অবস্থায় মিউকাস বের করে দেয়ার গতিও বাড়ে। কোহেন একটি বিশেষ তিতা স্বাদ সংগ্রাহী T2R38 নিয়ে প্রচুর গবেষণা করেছেন। ধারনা করা হয় এই সংগ্রাহীর উপস্থিতিই কিছু কিছু মানুষকে সুপার-টেস্টার বানিয়ে দেয়। এরা অতি অল্প মাত্রায় তিতা পদার্থের উপস্থিতিও সাথে সাথে ধরে ফেলতে পারেন। মজার বিষয় হলো এদের সিলিয়াও অতি সামান্য ব্যাক্টেরিয়ার উপস্থিতিও ধরে ফেলে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয় যার ফলে ওনারা ভাগ্যবান যে খুব কমই গ্রাম নেগেটিভ ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমনের শিকার হতে হয়।

কোহেন বলেন কোন, ব্যাক্তিতে নিরাপদ তিতা পদার্থের স্বাদ গ্রহন করতে দিয়ে বলতে পারি তিনি কতটা তিতা অনুভব করছেন। এই তথ্য থেকে খুব সহজেই বলা সম্ভব হতে পারে তিনি কতটা সংবেদনশীল। যে বেশি তিতা অনুভব করবেন, তার অনাক্রম্যতা এই ক্ষেত্রে তত শক্তিশালী। অদূর ভবিষ্যতে এটা এমনও হতে পারে তিক্ততার মাত্রা যাচাই এর মাধ্যমে আক্রমনকারী অনুজীবের পরিচয় জানা যাবে। নাকের মধ্যে তিতা কিছু ঢুকিয়ে দিয়ে অনাক্রম্যতাকে উত্তেজিত করে চিকিৎসাও সম্ভব হতে পারে।

শ্বাসনালী ছাড়াও সাম্প্রতিক কালে পেটের ভেতরে স্বাদ সংগ্রাহী পাওয়া গেছে। এরাও অনাক্রম্যতাতে ভুমিকা রাখতে পারে। অন্ত্রের টাফট কোষে স্বাদ সংগ্রাহী থাকে, ধারনা করা হতো এদের কাজ হয়তো খাদ্যের সাথে কোন বিক্রিয়া করা। কিন্তু ফিংগারের কাজ দেখে অনুপ্রানিত হয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইকেল হাওইট গবেষনা শুরু করেন এবং হ্যা শেষ পর্যন্ত বুঝতে পারেন ইদুরের অন্ত্রে এই টাফট কোষের স্বাদ গ্রাহগুলো এককোষি এবং গোলকৃমির উপস্থিতিতে সক্রিয় হয়ে অনাক্রম্য ব্যবস্থাকে জানান দেয়। যথাযথ কার্যপ্রক্রিয়া এখনো অজানা। তবে তিনি দেখেছেন সঠিক সংকেত অণুর অভাবে অনাক্রম্য ব্যবস্থা সক্রিয় হয়না, এবং পরজীবিটিকে খুঁজে তার থেকে পরিত্রান পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়। কিন্তু সংকেত অণু যখন স্বাদ সংগ্রাহীকে নাড়া দেয় তখন কাজটা সহজ হয়ে যায়।

পরিশেষে অনুসন্ধ্যিৎসু মনে অনেক অনেক প্রশ্ন নিয়েই লেখাটি শেষ করতে হচ্ছে। তবে প্রশ্ন করতে হবে, মানুষ প্রশ্ন করতে পেরেছিলো বলেই এতদূর আসতে পেরেছে। প্রচলিত গন্ডির বাইরে এসে কেউ কেউ ভাবতে পেরেছে বলেই আমরা জানতে পেরেছি এমনকি আমাদের দেহের ভেতরেও গন্ডির বাইরে কত ঘটনা ঘটে। অনেক কিছুই এখনো অজানা, কিভাবে এরা সক্রিয় হয়, কি কাজ করে। কিন্তু পরীক্ষাগারে এদের নিয়ে কাজ হচ্ছে, দিগন্তে উকি দিচ্ছে আরো চমকপ্রদ চিকিৎসা প্রযুক্তি। আমরা যদি সভ্য থাকি, বিজ্ঞান আমাদের সুন্দর একটা ভবিষ্যত উপহার দেবে, ভাবতে দোষ কি?

তথ্যসূত্রঃ
Senses in unlikely places, Sandeep Ravindran, The Scientist, September, 2016

উচ্চশিক্ষা...সব ছাত্র ছাত্রীর জীবনের স্বপ্ন! দেশের শিক্ষা শেষ করে দেশের বাইরে বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য পাড়ি জমায়, চোখে স্বপ্নিল আশা নিয়ে। আমার বাক্তিগত মতামত, এই সুযোগ কতখানি সৌভাগ্যের ব্যাপার এটা খুব কম student ই উপলব্দি করে। দেশের অনেক অনেক সম্ভাবনাময় student কখনো সুযোগ, কখনো আর্থিক অসঙ্গতি, কখনো শুধুই ভাগ্যের কারনে উচ্চশিক্ষা অর্জনের এই সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত হয়। যারা এই সুযোগ পায়, তাদের সবার মাথায় একটা দায়িত্বও আসে, নিজের দেশের লোককে প্রতিনিধিত্ব করার।

আমি কোন বিশাল বড় responsibility কথা বলছি না, এমন না আপনি যেখানে আছেন সেখানে যে নতুন student যাবে তাকে বাসায় থাকতে দেয়া, রান্না করে খাওয়ানো ইত্যাদি। যদিও অনেককেই আছেন, যারা এতখানি নিঃস্বার্থ ভাবে করেন। আমি বলছি খুবি simple বাপার, আপনার behavior towards everything. কেন বলছি কিছু ঘটনা দিয়ে বলি।

ঘটনা ১। এক্স নতুন দেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আসে, সেই শহরের এক লোক বড়ই দয়ালু, যত নতুন student আসে তাদের সবাইকেই উনি নানাভাবে সাহায্য করেন। তো, এক্স এর সাথেও ইনার পরিচয় হল, উনি বাসা খুজে দিতে সাহায্য করলেন। একদিন এক্স কাঁদকাঁদ হয়ে উনার বাসায় যেয়ে বলল, তার বাবা ICU তে, খুবি অসুস্থ। বাবার জন্য টাকা পাঠানো লাগবে, হাতে টাকা নেই, শুনে দয়ালু ভিনদেশি ভদ্রলোক ২০০ ইউরো দিয়ে বললেন, তারাতারি যাও টাকা পাঠাও। এক্স মহা খুশিতে এই টাকা নিয়ে paris ঘুরে আসলো। ঘটনা সেই ভদ্রলোক অন্য student দের কাছ থেকে জেনে যান যখন ওর বাবার খবর জিগ্যেস করেন। এই ভদ্রলোক কাউকেই কিছু বলেন নাই কিন্তু, কোন student কে এভাবে সরাসরি financial help করা বন্ধ করে দেন।

ঘটনা ২। এক্স ২ এসেছে বেশিদিন হয়নি, হাতের ও bank এর টাকা দামি দামি branded perfume, watch এবং বিবিধ জিনিস কিনে শেষ। Student হিসেবে প্রতি মাসে বাড়ী ভাড়া, health insurance তো দেয়াই লাগে। সে একজায়গায় কাজ নিলো, সাথে credit card ও নিলো, টাকা যা পায় তা এমনি ফুর্তি করে খতম, মাসের পর মাস বাড়ী ভাড়া আর health insurance জমা হয়। বাড়ীওয়ালা তো ৩ মাস পরে বের করে দিলো, এরপর থেকে বাংলাদেশ থেকে আসছে শুনলেই আগেই বাড়ী ভাড়া দিবে না বলে দেয়। সেই শহরের health insurance office এ যেয়ে কান্নাকাটি করে বিশাল বড় scene create করে আসলো। আপনি যদি বলেন আপনার কাছে টাকা নাই, অথচ ব্যাংক বলে আপনি ৬০০/৭০০ ইউরোর ক্রেডিট কার্ড বিল যা সবই লাক্সারি প্রোডাক্ট, আপনার কথা বিশ্বাস করার কোন কারন কি আছে? জরিমানা সহ ধারকর্জ করে health insurance pay তো করলো কিন্তু, এরপর ওই office এ বাংলাদেশি যে কোন student কি ব্যবহার পায় তা আর নাই বা বললাম।

ঘটনা ৩। এক্স ৩ আসছে পরাশুনা করতে (কাগজে!) এসে তাকে university তে দেখাই যায় না, এখানে ওখানে সেখানে কাজ করে অনেক টাকা কামায় প্রতি মাসে, আর ফুর্তি করে (যত রকম সম্ভব)। কাজের জায়গায় অনিয়মিত, ফাকিবাজ এবং হাতটান ও দেয়, কিছুদিন পর পর কাজ থেকে বের করে দেয়, আবার অন্য জায়গায় যেয়ে কাজ নেয়। কিছুদিন পর ওই শহরে বাঙালিকে কাজ দিতে চায় না কেউ, সে এত জায়গায় কাজ করেছে এবং এত সুনাম কামিয়েছে যে মালিক বলে আর সব দেশ ঠিক আছে, বাংলাদেশ এর লোক আর না বাবা!

ঘটনা ৪। নামি university র এক নামি research lab এ বেতন সহ internship শুরু করে Y। যারা জানেন না তাদের জন্য বলছি, আপনার Masters coursewok বা curriculum এর ভিতরে যদি internship করেন versity or clinic এর lab এ, তাহলে সাধারনত ফ্রী তেই করতে হয়, internship এ বেতন পাওয়া টা ভাগ্যের বিশয়। Y ৬ মাস internship করে, এই সময়ে সে অনিয়মিত, ল্যাবে দুপুর ১২ তার সময় যায়, presentation এর দিন unprepared প্রেজেন্টেশান, ৬ মাসের ল্যাব এ কোন result নাই। এই সময় তার বেতন বন্ধ করে দেয়া হয়, বিশাল দুঃখের কাহিনি বলে supervisor কে, তাকে আর ৬ মাস সময় দেয়া হয়। পরের ৬ মাসে ও তার কোন result নাই, থাকবে কিভাবে? কাজ ঠিকমত করলে তো! যে ল্যাবের কথা বলছি এটা stem cell research lab, অত্যন্ত বায়বহুল তার equipments আর reagents। ১২ মাসে ১০,০০০ ইউরোর সমপরিমান ল্যাব এ খরচ করার পরে no result! এরপর supervisor কে কিছু না বলেই দেশে চলে যায় ২ মাসের জন্য। ফেরত এসে কান্নাকাটি, এবার supervisor সাফ মানা করে দেয়। এবং পরের ব্যাচের এক student যখন internship করতে চায়, supervisor অন্য দেশের student নিয়ে নেন। He said, I can not take chance again, well there can be bad sudents in any country but here thing was about his attitude.

ভাবতে পারেন, এমনও হয়! উপরে যা লিখেছি তার প্রতিটা ঘটনা আমার চোখে দেখা, ভুক্তভোগীও। আমরা যখন বাইরে আসি, student হিসেবে, মানে আমরা ভদ্র, শিক্ষিত এবং ভাল পরিবারের সন্তান। একজন labor কোন খারাপ attitude করলে যতটা না প্রভাব পরে, একটা student করলে প্রভাব পরে অনেক অনেক বেশি। আমার এই লেখার উদ্দেশ্য শুধু এতুকুই যে,আমরা যেখানেই যাই, যাই করি না কেন একটু ভেবে যেন করি! আপনার একটা অসচেতনটা, মিথ্যা আপনার পরের একটা ভাল মানুষের জন্য challenge হয়ে দাড়ায়, তাকে বিনা কারনে বিনা দোষে ঝামেলা পোহাতে হয়, আলাদা কষ্ট করতে হয় এটা প্রমান করতে যে সে আলাদা আপনার থেকে! বাংলাদেশের মানুষ পরিশ্রমি, মেধাবী এবং ভদ্র, কেন আপনার এমন কাজে বা বাবহারে বাইরের দেশের লোক বাকি মানুষদের খারাপ ভাববে?

মুদ্রার উলটা পিঠ বলি, আনন্দ নিয়ে বলি। এমনও জায়গা আছে যেখানে আমাদের student এত ভাল কাজ করেছে, ভাল attitude show করেছে যে বস তাকেই আবার বলেছে তোমার দেশেরই কাউকে refer কর। এখানে কোন preference দেয়ার কথা বলছি না, অন্তত বস যখন আরেকটা student এর profile দেখে, তখন তার মনে কোন তিক্ত অভিজ্ঞতা আসে না। এটা কতখানি প্রভাব ফেলে যারা PhD বা postdoc এ কাজ করেন তারা ভালভাবেই বুঝতে পারবেন।

অনেক ইংলিশ শব্দ ব্যবহার করার জন্য আমি দুঃখিত! লজ্জার সাথে স্বীকার করছি, আমার বাংলা টাইপ রাইটিং এখনো খারাপ। আশা করি, সবাই ক্ষমাসুন্দর দ্দৃষ্টিতে দেখবেন। সবার জন্য শুভকামনা!

Copyright 2019